শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তার ইনস্টাগ্রাম হ্যাক করে ইরানপন্থি প্রচারণা

মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখানে ইরানের পক্ষে ইতিবাচক প্রচারণা চালিয়ে অজ্ঞাত হ্যাকার। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা বার্তাও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার হয়। মঙ্গলবার (২ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।...
মার্কিন স্পেস ফোর্সের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে সেখানে ইরানের পক্ষে ইতিবাচক প্রারণা চালিয়ে অজ্ঞাত হ্যাকার। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী নানা বার্তাও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচার হয়।
মঙ্গলবার (২ জুন) এই তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।
রোববার এই হ্যাকিংয়ের ঘটনাটি ঘটে। এ সময় অ্যাকাউন্ট থেকে একাধিক ভিডিও ও বার্তা পোস্ট করা হয়। এর মধ্যে কিছু পোস্টে ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে ধরে হ্যাকাররা।
সিএনএনের পর্যালোচনা করা একটি ভিডিওতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে ভিয়েতনাম যুদ্ধের অবিস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব ‘হ্যানয় হান্না’-এর কণ্ঠ ব্যবহার করা হয়।
সেখানে মার্কিন সেনাদের উদ্দেশে বলা হয়, ‘ডুবন্ত জাহাজ ছেড়ে চলে যাও।’
ভিডিওটিতে ইরানের সাবেক নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানির ছবিও ব্যবহার করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ পর তিনি নিহত হন।
হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টের মালিক মার্কিন স্পেস ফোর্সের সর্বোচ্চ পদমর্যাদার তালিকাভুক্ত সদস্য চিফ মাস্টার সার্জেন্ট জন বেন্টিভেনিয়া।
রোববার রাতে ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি সহকর্মীদের সতর্ক করে বলেন, তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে আসা কোনো লিংকে যেন কেউ ক্লিক না করেন। পাশাপাশি, ওই অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশ করা কোন ভিডিও দেখা বা শেয়ার না করার কথাও উল্লেখ করেন সার্জেন্ট জন।
তিনি বলেন, ‘অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানে সংশ্লিষ্ট টিমগুলো কাজ করছে।’ স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র হ্যাকিংয়ের ঘটনা নিশ্চিত করলেও কতক্ষণ ধরে ওই পোস্টগুলো অ্যাকাউন্টে ছিল বা কারা এর পেছনে জড়িত—সে বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।
ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে স্পেস ফোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জয়েন্ চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন বলেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বোমা হামলা শুরু করলে স্পেস ফোর্স ‘নন-কাইনেটিক’কৌশল ব্যবহার করে ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা দুর্বল করতে সহায়তা করে।
যুদ্ধ চলাকালে মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব বারবার সেনাসদস্যদের সতর্ক করেছে যে তাদের মোবাইল ফোন ও অনলাইন অ্যাকাউন্ট শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী সেন্ট্রাল কমান্ড সম্প্রতি আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছে, বাণিজ্যিক লোকেশন ডেটা ব্যবহার করে মার্কিন সেনা সদস্যদের নজরদারি বা লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা নিয়ে তারা একাধিক হুমকির তথ্য পেয়েছে।
এপ্রিলের শেষ দিকে মার্কিন মেরিন কোরের কয়েকজন সদস্য, বেসামরিক কর্মী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্দেহভাজন ইরানি হ্যাকারদের কাছ থেকে হুমকি বার্তা পান।
সিএনএনের দেখা এমন একটি বার্তায় বলা হয়েছিল, ‘আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ইউনিটগুলোর কাছে আপনাদের পরিচয় সম্পূর্ণ জানা আছে এবং আপনাদের প্রতিটি গতিবিধি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’
জন বেন্টিভেনিয়ার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান তথ্যযুদ্ধের সর্বশেষ উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।
Published: প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১৬:০৫
Comments
No comments yet
Be the first to share your thoughts!