সব স্বপ্ন সত্যি করে ম্যান সিটি ছাড়ছেন স্টোনস
খেলা ডেস্ক
April 28, 2026
৩১ বছর বয়সী জন স্টোনস জানিয়ে দিয়েছেন, এই মৌসুম শেষেই তিনি চলে যাচ্ছেন ইতিহাদ স্টেডিয়ামের মায়া কাটিয়ে।
আকাশী-নীল জার্সিতে ১০ বছরের এক দীর্ঘ পথচলা। সাফল্যের সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে যিনি হয়ে উঠেছিলেন পেপ গার্দিওলার দাবার বোর্ডের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ঘুঁটি। সেই জন স্টোনস এবার নোঙর তুলছেন। আজ এক আবেগঘন বার্তায় ৩১ বছর বয়সী ইংলিশ এই ডিফেন্ডার জানিয়ে দিলেন, এই মৌসুম শেষেই তিনি চলে যাচ্ছেন ইতিহাদ স্টেডিয়ামের মায়া কাটিয়ে। ১০ বছর আগে এভারটন থেকে যখন ৪ কোটি ৭৫ লাখ পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন তিনি কৈশোর পেরোনো এক সদ্য তরুণ। আজ যখন বিদায়ের সানাই বাজছে, তখন পরিণত এক মানুষ। এই এক দশকে সিটির জার্সিতে ২৯৩টি ম্যাচ খেলেছেন, গোল করেছেন ১৯টি। কিন্তু পরিসংখ্যান দিয়ে কি আর স্টোনসের মাহাত্ম্য বোঝানো সম্ভব! গার্দিওলার জমানায় রক্ষণভাগ থেকে যেভাবে ম্যাচের পর ম্যাচ খেলা তৈরির মুন্সিয়ানা দেখিয়ে গেছেন, তাতে ইংলিশ ফুটবলের ব্যাকরণটাই বদলে গেছে অনেকখানি। বিদায়বেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্টোনস লিখেছেন, ‘গত ১০ বছর এটা আমার ঘর ছিল, আর সারাজীবনের জন্যও এই শহরটাই আমার ঘর হয়ে থাকবে। আমি এখানে এসেছিলাম এক কিশোর হিসেবে, আর বিদায় নিচ্ছি একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ হিসেবে—বাবা হয়েছি, স্বামী হয়েছি। আর মাঠের ভেতরে? এখানে এসে আমি যা স্বপ্ন দেখেছিলাম, সবই পূরণ হয়েছে।’ আসলেই সিটির হয়ে স্টোনসের সাফল্যের খেরোখাতাটা বেশ ভারী। ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা, চ্যাম্পিয়নস লিগসহ ১৬টি ট্রফি জিতেছেন। ক্লাব ফুটবলের তাঁর আর জেতার বাকি নেই কিছু। এবারও সিটি ঘরোয়া ট্রেবলের সন্ধানে। লিগ কাপ জেতা হয়ে গেছে, আর্সেনালের সঙ্গে চলছে লিগের লড়াই আর সামনেই এফএ কাপের ফাইনালে চেলসি। স্টোনস হয়তো চাইবেন, বিদায়টা যেন হয় রূপকথার মতো—আরেকটি ট্রফি হাতে নিয়ে। নিজের সাফল্যের সিংহভাগ কৃতিত্বই স্টোনস দিয়েছেন বস পেপ গার্দিওলাকে। তাঁর ভাষায়, ‘তিনি না থাকলে এই সাফল্যের ধারেকাছেও আমি পৌঁছাতে পারতাম না। বিশ্বের সেরা কোচের সঙ্গে এত বছর কাটাতে পেরে আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।’ চলতি মৌসুমে ইনজুরির কারণে মাত্র ১৬টি ম্যাচে নামতে পারলেও স্টোনসের অভাব বারবার টের পেয়েছে সিটি। বের্নার্দো সিলভার পর স্টোনস—সিটির সোনালি প্রজন্মের আরও এক নক্ষত্র খসে পড়ছে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে স্টোনসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লিখেছে, ‘সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে সফল যুগের পেছনে স্টোনসের অবদান প্রশ্নাতীত। মৌসুম শেষে আমরা এই অসাধারণ খেলোয়াড়কে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিদায় জানাব।’ আগামী বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড দলে তাঁর জায়গাটা প্রায় নিশ্চিত। তবে ইতিহাদের গ্যালারি আর কোনো দিন দেখবে না রক্ষণ সামলে মাঝমাঠে উঠে আসা সেই চিরচেনা জন স্টোনসকে। বিদায়বেলাটা হয়তো বিষন্ন কিন্তু অর্জনের খাতাটা তো কানায় কানায় পূর্ণ!Published: প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৫০
Source: https://www.prothomalo.com/sports/football/4islu4zbdf
জন স্টোনস
পেপ গার্দিওলা
ম্যানচেস্টার সিটি
Comments
No comments yet
Be the first to share your thoughts!