Home Articles এআই

কর্মীদের কম্পিউটার নজরদারি করবে মেটা, কেন?

আহসান হাবীব April 25, 2026
কর্মীদের কম্পিউটার নজরদারি করবে মেটা, কেন?

কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করে এআই উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মেটা।

কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের ধরন বিশ্লেষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মেটা। এ উদ্যোগের আওতায় কর্মীদের কিস্ট্রোক, মাউস ক্লিকসহ বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রম সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হবে। পরে এসব তথ্য এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। মঙ্গলবার কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভ্যন্তরীণ বার্তায় মেটা জানায়, তাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার ও নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে একটি বিশেষ ট্র্যাকিং টুল চালু করা হচ্ছে। এই টুল কর্মীদের দৈনন্দিন কাজের ধরন পর্যবেক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট তথ্য নথিভুক্ত করবে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় মেটার এক মুখপাত্র বলেন, মানুষের দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনে সহায়ক ডিজিটাল সহকারী তৈরির জন্য বাস্তব ব্যবহারের উদাহরণ প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে, সেই অভিজ্ঞতাই আমাদের মডেল উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’ একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, সংগৃহীত তথ্য অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে না এবং সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে এ উদ্যোগ ঘিরে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগও বাড়ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মী বলেন, ক্ষুদ্রতম কাজ পর্যন্ত নজরদারির আওতায় আনা এবং তা এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহার পরিস্থিতিটিকে অস্বস্তিকর করে তুলছে। এটি একধরনের ‘ভীতিকর’ বাস্তবতা। আরেকজন সাবেক কর্মী বলেন, কোম্পানিটি এখন পুরোপুরি এআইকেন্দ্রিক হয়ে উঠেছে। এই ট্র্যাকিং ব্যবস্থা সেই প্রবণতারই আরেকটি উদাহরণ। চলতি বছর ধাপে ধাপে প্রায় দুই হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে মেটা। সামনে আরও বড় পরিসরে ছাঁটাই হতে পারে, এমন আশঙ্কাও করছেন অনেক কর্মী। গত মাসে আংশিক নিয়োগ স্থগিতের ঘোষণা দেয় প্রতিষ্ঠানটি। এ উদ্যোগ পরে আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্চে যেখানে মেটার চাকরির ওয়েবসাইটে প্রায় ৮০০টি পদ খালি ছিল, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৭টিতে। তবে নিয়োগ কমানো বা সম্ভাব্য ছাঁটাই নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি প্রতিষ্ঠানটি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন এই ট্র্যাকিং টুলটির নাম ‘মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ’ (এমসিআই)। আগে থেকেই কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের কিছু তথ্য প্রতিষ্ঠানের নাগালে থাকলেও এআই প্রশিক্ষণের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে আলাদাভাবে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের উদ্যোগ এবারই প্রথম। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ সম্প্রতি জানিয়েছেন, এআই খাতে বিনিয়োগ আরও জোরদার করা হবে। ২০২৬ সালে এ খাতে প্রায় ১৪ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিনিয়োগ আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। এর আগে ২০২৫ সালে তথ্য লেবেলিং প্রতিষ্ঠান স্কেল এআইয়ে প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করে মেটা। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির কয়েকজন নির্বাহীকে নিজেদের দলে নিয়ে এসে এআই সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুনভাবে গঠিত ‘মেটা সুপারইন্টেলিজেন্স ল্যাবস’ থেকে সম্প্রতি ‘মিউজ স্পার্ক’ নামের একটি এআই মডেলও উন্মোচন করা হয়েছে। নতুন ট্র্যাকিং টুল থেকে সংগৃহীত তথ্য ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও উন্নত এআই মডেল ���ৈরির পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠানটি। চলতি বছরের শুরুতে জাকারবার্গ বলেন, ২০২৬ সাল হবে এমন একটি সময়, যখন এআই কাজের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে। যেসব প্রকল্প আগে বড় দলের প্রয়োজন হতো, এখন তা একজন দক্ষ ব্যক্তিই সম্পন্ন করতে পারছেন। সূত্র: বিবিসি

Published: প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১০: ৫৯

Source: https://www.prothomalo.com/technology/artificial-intelligence/aud3o4t8zq

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মেটা ফেসবুক মার্ক জাকারবার্গ

Comments

No comments yet

Be the first to share your thoughts!