Home Articles সুস্থতা

শিশু কেন জুতা-স্যান্ডেল মুখে দেয়, এটি কি কোনো রোগের লক্ষণ

রাফিয়া আলম July 10, 2026

অনেক শিশুই জুতা-স্যান্ডেল কামড়াতে ভালোবাসে। অভিভাবকেরা এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। শিশুর এই জুতা মুখে দেওয়ার অভ্যাসটি কি আসলেই স্বাভাবিক?

শিশুরা এমন নানান কাজই করে থাকে, যা বড়দের কাছে অদ্ভুত বা অস্বাভাবিক বলে মনে হয়। এমনই এক আচরণ হলো জুতা-স্যান্ডেল কামড়ানো। অনেক শিশুই জুতা-স্যান্ডেল কামড়াতে ভালোবাসে। হাতের কাছে এক পাটি স্যান্ডেল বা জুতা পেলেই হলো, মনের সুখে কামড়াতে থাকে সে। বেশির ভাগ শিশু কেন এই আচরণ করে, এ বিষয়ে জানালেন ঢাকার মিরপুরের ডা. এম আর খান শিশু হাসপাতাল ও শিশুস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. লাজিনা শারমিন।

শিশুসুলভ সাধারণ কৌতূহল থেকেই অনেক অবুঝ শিশু জুতা-স্যান্ডেল মুখে দেয়। এটি সাধারণ ব্যাপার। হামাগুড়ি শেখার সময় থেকেই শিশুর জগৎটা বেশ বিস্তৃত হয়ে ওঠে। এ সময় হাতের কাছে থাকা অনেক জিনিসই মুখে দিয়ে ফেলে সে। এটি স্বাভাবিক আচরণ।

একটি শিশুর যখন প্রথম দাঁত ওঠে, তখনো তার নানান কিছু কামড়ানোর প্রবণতা দেখা দিতে পারে। এই আচরণের একটা অংশ হতে পারে জুতা-স্যান্ডেল কামড়ানো। এটিও স্বাভাবিক আচরণ।

বোঝার বয়সের আগে জুতা-স্যান্ডেল কামড়ানোর বিষয়টা স্বাভাবিক ধরে নেওয়া যেতে পারে। তবে সব শিশুর ক্ষেত্রে আবার এই আচরণ স্বাভাবিক না-ও হতে পারে। কখনো কখনো শিশুর এই আচরণ তার শারীরিক কিংবা মানসিক কোনো অসুবিধার উপসর্গও হতে পারে। শিশুর বয়স এবং উপসর্গের ব্যাপ্তি থেকে ধারণা পাওয়া যায়, তার এই আচরণ স্বাভাবিক কি না।

যে শিশু বোঝে, জুতা-স্যান্ডেল কামড়ানো উচিত নয়, সে যদি বারবার জুতা-স্যান্ডেল কামড়ায়, বিষয়টাকে গুরুত্ব দিন। বিশেষ করে যদি এক মাস বা তার বেশি সময় ধরে তার এই প্রবণতা রয়ে যায়। খেতে বা কামড়াতে নেই, এমন অন্যান্য জিনিসও যদি সে কামড়াতে থাকে, সেটিও অস্বাভাবিকতার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।

শিশুর জুতা-স্যান্ডেল কামড়ানোর প্রবণতাটিকে অস্বাভাবিক মনে হলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়। অনেক সময় আয়রন বা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের অভাবজনিত কারণে কিংবা মানসিক বিকাশজনিত সমস্যায় এমন প্রবণতা দেখা দেয়। অস্বাভাবিক আচরণের পেছনে এ ধরনের কোনো কারণ থেকে থাকলে তা একটি বাড়ন্ত শিশুর শারীরিক বা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এমন ক্ষেত্রে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। নইলে সমস্যাটি জটিল আকার ধারণ করতে পারে। বাড়ন্ত বয়সের সেই সমস্যার প্রভাব বহু বছর পর্যন্ত রয়ে যেতে পারে। তাই বিষয়টি অস্বাভাবিক মনে হলে একজন শিশুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

Published: প্রকাশ: ১০ জুলাই ২০২৬, ০৬: ০০

Source: https://www.prothomalo.com/lifestyle/health/vkb1neus8v

শিশু ভালো থাকুন জুতা সুস্বাস্থ্য অসুস্থ

Comments

No comments yet

Be the first to share your thoughts!