Home Articles ওটিটি

‘সব সত্য সব সময় মানুষকে বাঁচায় না’

বিনোদন প্রতিবেদক August 11, 2026
‘সব সত্য সব সময় মানুষকে বাঁচায় না’

বয়সের সঙ্গে সীমিত হয়ে আসে মানুষের চাহিদা, কমে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা; অন্য রকম হয়ে ওঠে হারানোর ভয়। এর সঙ্গে যোগ হয় অসুস্থতা, একাকিত্ব ও বয়সের নানা সীমাবদ্ধতা। জীবনের শেষ প্রান্তের দিকে এগিয়ে যাওয়া মুন্তাসির ও শাহিদা কীভাবে এসব ক্ষয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও একে অপরকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজে নেন, ‘রঙিন সুরমা’য় সেই গল্পই বলতে চেয়েছেন নির্মাতা রিয়াজুল হক। চরকি ফ্লিকটির প্রধান দুই চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফজাল হোসেন ও আফসানা মিমি। সীমিত দৈর্ঘ্যের কনটেন্টটি আজ রাত ১২টায় চরকিতে মুক্তি পাবে।

‘রঙিন সুরমা’র গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন এবং পরিচালনা করেছেন রিয়াজুল হক। নির্মাতার ভাবনায় সত্যের রং ধূসর, কারণ সত্য স্থির, তাকে ইচ্ছেমতো বদলে নেওয়া যায় না। বিপরীতে মিথ্যার আছে অনেক রং। একটি মিথ্যাকে টিকিয়ে রাখতে জন্ম নেয় আরও মিথ্যা। কখনো সেই মিথ্যা ভালোবাসার মতো কোমল, কখনো আনন্দের মতো উজ্জ্বল, কখনো আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়, আবার কখনো বিধ্বংসী। এই সত্য-মিথ্যার রং থেকেই এসেছে গল্পের নাম। মুন্তাসির ও শাহিদার জীবনের বাস্তবতাও ধূসর—বয়স, সময়, সম্পর্ক, না পাওয়া, ভয় আর অনিবার্য কিছু সত্য দুজনকে ঘিরে রেখেছে। সেই জীবনের মধ্যেই কিছু সত্য আড়াল করে নিজেদের জন্য রঙিন কিছু মুহূর্ত তৈরি করে নেন তাঁরা।

নির্মাতা বলেন, ‘সব সত্য সব সময় মানুষকে বাঁচায় না। কখনো কখনো একটি মিথ্যা মানুষকে তার প্রিয় মানুষটির পাশে থাকার সুযোগ দেয়, একটি সম্পর্ককে ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করে কিংবা জীবনের শেষ আলোটুকু ধরে রাখতে সাহায্য করে। রঙিন সুরমা তাই আসলে একটি বৈপরীত্যের নাম। ধূসর জীবনের চোখে যে সামান্য রংটুকু এঁকে নেয় মানুষ, সেই রঙের নামই রঙিন সুরমা।’ গল্পটি পড়েই কাজটি করতে আগ্রহী হন আফসানা মিমি। তিনি বলেন, ‘(রিয়াজুল হক) ইমরান যখন চিত্রনাট্য পাঠালেন, প্রথমেই নামটা দৃষ্টি কেড়েছিল—রঙিন সুরমা। স্বাভাবিক আগ্রহ নিয়ে পড়তে শুরু করলাম, শেষ করেছি চোখে জল নিয়ে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর কাজটা হলো।’

আফজাল হোসেনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও আলাদা করে বলেছেন মিমি, ‘যাঁকে পর্দায় দেখে ভালোবেসেছি, তাঁর সঙ্গে কাজ করতে গেলে ভীষণ রোমাঞ্চিত হই। প্রতিবার মনে হয়, আহা, আমি কী সৌভাগ্যবান! আফজাল হোসেনের সঙ্গে কাজ করছি! আর আফজাল ভাই সবকিছু এত সহজ করে দেন, বন্ধুর মতো।’ নির্মাতা রিয়াজুল হককে ‘ভীষণ নিবেদিতপ্রাণ’ ও ‘খুঁতখুঁতে’ বলেও উল্লেখ কেন মিমি। চরিত্রের যাত্রা ও শুটিংয়ের নানা বিষয় নিয়ে দুজনের মধ্যে ঝগড়াও হয়েছে বলে মজা করে জানান। এখন কাজটি পর্দায় দেখার অপেক্ষায় আছেন এই অভিনেত্রী। আফজাল হোসেনও চিত্রনাট্য পড়েই কাজটি করার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর কাছে গল্পটির বিশেষত্ব এর শান্ত আবেগ। গুণী এই নির্মাতা, অভিনেতা বলেন, ‘আজকাল মানুষের মন মাতানোর জন্য গরম-গরম গল্পের চাহিদা অনেক। এমন সময়ে কেউ যদি ঠান্ডা মেজাজের, শিরশির করা অনুভূতির কোনো গল্প পর্দায় হাজির করতে চায়, সে ভাবনাকে বিশেষ ভাবতেই হয়। সেটা ভেবেই আগ্রহ নিয়ে অভিনয় করা। রঙিন সুরমার আবেগ আশা করি দর্শকের আবেগ স্পর্শ করতে পারবে।’

বরেণ্য অভিনয়শিল্পীদের কেন্দ্র করে দেশে তুলনামূলক কম কাজ হয় বলে মনে করেন চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি। তাঁর মতে, রঙিন সুরমা দিয়ে কিছুটা হলেও সেই প্রচলিত ধারার বাইরে যাওয়ার চেষ্টা করেছে চরকি। তিনি বলেন, ‘রঙিন সুরমা খুব আবেগঘন একটা কাজ। সব বয়সী দর্শকই নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কনটেন্টটির সঙ্গে সম্পর্ক খুঁজে পাবেন। গুণী দুই অভিনয়শিল্পীকে নিয়ে বলার কিছু নেই। তাঁদের অভিনয়ের মাধ্যমে অনুভূতিগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে।’ নির্মাতা জানান, রঙিন সুরমা দর্শককে খুব পরিচিত, অথচ প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া এক জীবনের কাছে নিয়ে যাবে। যে জীবনকে মানুষ স্বাভাবিক ভেবে পাশ কাটিয়ে যায়, তার ভেতরেই হয়তো লুকিয়ে থাকে বেঁচে থাকার গভীরতম কারণ। রিয়াজুল হক বলেন, ‘রঙিন সুরমা কোনো নির্দিষ্ট বয়সের দর্শকের জন্য নয়; বরং বয়সভেদে গল্পটি দর্শকের কাছে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ তৈরি করবে।’

Published: প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৯: ৩০

Source: https://www.prothomalo.com/entertainment/ott/sr4kuwr3al

ওয়েব ফিল্ম চরকি আফসানা মিমি আফজাল হোসেন

Comments

No comments yet

Be the first to share your thoughts!