অটোরিকশা-প্রাইভেট কারের ‘ঘষা লাগাকে’ কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, ছয় সাংবাদিকসহ আহত ১৬

মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ায়।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে প্রাইভেট কারের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার ঘষা লাগাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ছয় সাংবাদিকসহ ১৬ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বেলা একটা থেকে শ্রীমঙ্গল শহরে দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকের পর উভয় পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান থেকে সরে দাঁড়ালে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
সবশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য দুই পক্ষকে নিয়ে বসে পরিস্থিতি শান্ত করেছেন। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। বর্তমানে শহরের পরিস্থিতি শান্ত আছে।
আহত ব্যক্তিরা হলেন আমজাদ হোসেন বাচ্চু (৪৯), ইসমাইল মাহমুদ (৫৭), এহসানুল হক (৩৪), উজ্জ্বল কুমার দাশ (৪৪), নূর মোহাম্মদ সাগর (৩৩), মো. আলামিন (৩০), রাব্বি (২২), আইয়ুব আলী (৪০), বিশাল (২২), শওকত (৪৪), রাকিব (১৯), বিল্লাল মিয়া (৩২), চয়ন মিয়া (৩৮) ও আমির মিয়া (২৪)। অন্য দুজনের নাম জানা যায়নি। গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আমজাদ হোসেন বাচ্চু, বিশাল, আইয়ুব আলী, রাব্বি ও সওকতকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা জানান, তাঁদের হাসপতালে ১৬ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বেশির ভাগই মাথা ও শরীরে আঘাত নিয়ে এসেছিলেন।
এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকেরা হলেন আমজাদ হোসেন (বাচ্চু), ইসমাইল মাহমুদ, এহসান বিন মুজাহিদ, এস কে দাশ সুমন, নূর মোহাম্মদ সাগর ও মো. আলামিন। তাঁরা সবাই ঢাকাভিত্তিক জাতীয় দৈনিকের স্থানীয় সাংবাদিক। সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁরা হামলার শিকার হন।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা ও একটি প্রাইভেট কারের মধ্যে রাস্তায় ঘষা লাগে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা–কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে উভয় পক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পক্ষে ছিলেন অটোরিকশার চালক ও শ্রমিকেরা; অপর পক্ষে ছিলেন প্রাইভেট কার ও মাইক্রোবাসের চালক–শ্রমিকেরা।
আহত সাংবাদিক ইসমাইল মাহমুদ বলেন, ‘আমরা সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে পরিবহন শ্রমিকেরা আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। এ সময় সহকর্মী আমজাদ হোসেন বাচ্চুকে পাইপ ও কাঠের টুকরা দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে অন্য সহকর্মীরা এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপরও হামলা চালানো হয়।’
দুই পক্ষের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়েই আমি হাসপাতালে গিয়ে আহতদের খোঁজ নিয়েছি। পরে পরিবহনশ্রমিকদের দুই পক্ষ ও সাংবাদিকদের নিয়ে বসে পরিস্থিতি শান্ত করেছি। আপাতত আহতদের চিকিৎসা চলুক। পরে সবাই বসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হবে। দুই পক্ষই পরিস্থিতি মেনে নিয়ে তাদের লোকজনকে শান্ত করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’
Published: প্রকাশ: ১৯ মে ২০২৬, ১৫: ১৭
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/3yhbu6rkqu
Comments
No comments yet
Be the first to share your thoughts!