অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচে লুকানো উষ্ণ পানির খোঁজ

রহস্যঘেরা মহাদেশ অ্যান্টার্কটিকা। অ্যান্টার্কটিকার পূর্ব দিকে অবস্থিত টটেন হিমবাহ। এটি একটি বিশাল এবং আপাতদৃষ্টিতে স্থির বরফের স্তর। ওপর থেকে দেখলে এই হিমবাহকে বেশ শান্ত ও সাধারণ মনে হলেও বিভিন্ন গবেষণায় হিমবাহটির সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য জানা গেছে। সোনার ও রাডার ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে চালানো গবেষণায় দেখা গেছে, সমুদ্রের উষ্ণ পানি অ্যান্টার্কটিকার বরফের নিচের উপত্যকাগুলোতে প্রবেশ করছে। এই পানি টটেন হিমবাহের একদম নিচের শূন্যস্থানে অনায়াসে পৌঁছে যাচ্ছে। নতুন এই তথ্যের কারণে অ্যান্টার্কটিকার বৃহত্তম হিমবাহ অঞ্চলের গঠন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের পুরো ধারণাই বদলে গেছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সমুদ্রের সঙ্গে এই হিমবাহের গোপন সংযোগপথ রয়েছে। এই পথগুলোই সমুদ্রের উষ্ণ পানিকে সরাসরি হিমবাহের তলদেশে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এই হিমবাহ পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার একটি বিশাল অঞ্চল থেকে পানি নিষ্কাশন করে। এই অঞ্চলকে বলা হয় ‘অরোরা সাবগ্লেসিয়াল বেসিন’। এই হিমবাহতে যে পরিমাণ বরফ জমে রয়েছে, তা গলে গেলে পৃথিবীর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ৩ দশমিক ৫ মিটার বা সাড়ে ১১ ফুট বেশি বেড়ে যাবে।
বিজ্ঞান সাময়িকী নেচার জিওসায়েন্সে প্রকাশিত এক গবেষণা ফলাফলে বলা হয়েছে, সমুদ্রের তলদেশের গভীর খাদের মধ্য দিয়ে উষ্ণ পানি টটেন হিমবাহের নিচের ক্যাভিটিতে প্রবেশ করতে পারে। বিজ্ঞানীরা বরফ ভেদ করতে সক্ষম রাডার ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বরফের নিচের গোপন ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য উন্মোচন করতে পেরেছেন। এই ফলাফল বিজ্ঞানীদের জন্য বেশ চমকপ্রদ ছিল। কারণ, এত দিন মনে করা হতো পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার তুলনায় পূর্ব অ্যান্টার্কটিকার বরফ অঞ্চল অনেক বেশি স্থিতিশীল ও নিরাপদ।
টটেন হিমবাহের নিচে থাকা ক্যাভিটি বা শূন্যস্থানটি সমুদ্রের পানি ও হিমবাহের মধ্যকার সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করছে। উষ্ণ পানি যখন এই ক্যাভিটিতে প্রবেশ করে, তখন তা আস শেলফ বা বরফের চাদরের নিচের অংশটিকে গলিয়ে দেয়। এই আইস শেলফগুলো প্রকৃতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
Published: প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১২: ৪১
Source: https://www.prothomalo.com/technology/science/gl1z6c4hh9
Comments
No comments yet
Be the first to share your thoughts!