Home Articles জেলা

‘নেশাখোর’ সন্দেহে কলেজছাত্রকে মারধরের পর কেটে দেওয়া হলো চুল

প্রতিনিধি August 15, 2026
‘নেশাখোর’ সন্দেহে কলেজছাত্রকে মারধরের পর কেটে দেওয়া হলো চুল

শনিবার দুপুরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সলিমুল্লাহ আবাসিক হলের অতিথিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব সলিমুল্লাহ আবাসিক হলে বহিরাগত এক কলেজছাত্রকে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছেন হলটির একদল শিক্ষার্থী। পরে তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার কাছে সোপর্দ করা হয়। হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তাঁদের কাছে ওই কলেজশিক্ষার্থীকে নেশাগ্রস্ত মনে হয়েছে।

আজ শনিবার দুপুরে হলের অতিথিকক্ষে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজের উচ্চমাধ্যমিক শাখার শিক্ষার্থী। তাঁর বাড়ি বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কাঠগড়া এলাকায় বলে জানা গেছে।

একাধিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার রাতে ওই কলেজশিক্ষার্থী পাশের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হলের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওবায়দুর রহমানের (রুশাদ) কক্ষে ছিলেন। আজ সকালে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় সলিমুল্লাহ হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী ওই কলেজশিক্ষার্থীকে থামিয়ে পরিচয় জানতে চান। এ সময় কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হওয়ায় তাঁকে সলিমুল্লাহ হলে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে ওই হলের অতিথিকক্ষে ওই ছাত্রকে মারধরের পর চুল কেটে দেওয়া হয়।

তাৎক্ষণিকভাবে মারধর ও চুলকাটায় জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে হলের একাধিক শিক্ষার্থীর ভাষ্য, এর আগে ওই কলেজশিক্ষার্থী হলের একটি কক্ষে গিয়ে নেশা করার জন্য গ্যাসলাইটার চেয়েছিলেন। পরে তাঁকে ক্যাম্পাসে দেখতে পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী বহিরাগত পরিচয় জেনে তাঁকে হলে নিয়ে মারধর করেছেন।

ওই কলেজশিক্ষার্থী নেশাগ্রস্ত বলে দাবি করেন নবাব সলিমুল্লাহ হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) ইবনে শিহাব। তিনি বলেন, ‘হলের কয়েকজন ছেলেটিকে আটক করে আমাকে খবর দেয়। ওই ছেলের কথাবার্তা অসংলগ্ন ছিল এবং নেশাগ্রস্ত মনে হচ্ছিল। আমি নিরাপত্তাকর্মীর সঙ্গে কথা বলার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ একজন তার চুল কেটে দিয়েছে।’

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার এক পরিচিত ভাইয়ের মাধ্যমে রুশাদ ভাইয়ের সঙ্গে পরিচয়। তাঁর রুমে গতকাল ছিলাম। আজ সকালে বাড়ি যাওয়ার পথে কয়েকজন আমাকে ধরে সলিমুল্লাহ হলে নিয়ে যান। তাঁরা বলেন, আমি গ্যাসলাইটার চেয়ে নাকি বেয়াদবি করেছি। এরপর তাঁরা আমাকে মারধর করে চুল কেটে দেন।’

ওই কলেজশিক্ষার্থীর পরিচিত চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘আমার এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে সে গতকাল রাত দুইটার দিকে আমার কক্ষে এসেছিল। পরে সকালে আমি তাকে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। পরে এ ঘটনা ঘটেছে।’

ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় রয়েছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘বহিরাগত একজন শিক্ষার্থীকে আটক করে আমাদের খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা শাখার লোক এবং সহকারী প্রক্টরকে পাঠিয়েছিলাম। হলের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে ওই ছেলে নাকি নেশাগ্রস্ত ছিল। তাকে নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে আসা হয়েছে এবং আগে তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপরাধ নেই। অভিভাবকেরা এলে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হবে।’

কাউকে এভাবে ধরে চুল কেটে দিতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে প্রক্টর বলেন, ‘এটি একটি মূল্যবোধ ও শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে। অন্য কোথাও গিয়ে আমরা যে কেউ এমন আচরণের মুখোমুখি হতে পারি। এটি পুরোপুরি অপ্রত্যাশিত। হলের শিক্ষার্থীদের আমি ডেকে এই মূল্যবোধের সেন্টিমেন্টটি তাদের রিয়ালাইজেশন (উপলব্ধি) করাব।’

Published: প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৬, ১৩: ০৯

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/h0rd8q4jxv

ঢাকা ঢাকা বিভাগ শিক্ষাঙ্গণ সাভার শিক্ষার্থী মারধর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

Comments

No comments yet

Be the first to share your thoughts!