‘তেল নিতে সময় কিছুটা কমলেও এখনো যে সময় লাগে, সেটি ভোগান্তির’
নিজস্ব প্রতিবেদক
April 25, 2026

আজ শনিবার ভোর ৫টায় রাজধানীর আসাদ গেটের মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্তও তেল পাননি প্রাইভেট কারের চালক মো. রিয়াজ।
‘যদি ২৪ ঘণ্টা তেল থাকত তাহলে আমাদের মতো ড্রাইভারদের ১০ ঘণ্টা, ১২ ঘণ্টা বাইরে বসে থাকার কোনো যুক্তি আছিল না। দেশে তো তেলই নাই। তেল আছে শুধু সংসদের ভেতরে, বাইরে তো তেল নাই।’ মনে ক্ষোভ নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন প্রাইভেট কারের চালক মো. রিয়াজ উদ্দিন। আজ শনিবার বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর আসাদ গেটে অবস্থিত মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশনে কথা হয় এই চালকের সঙ্গে। তিনি জানান, ভোর পাঁচটায় তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা অপেক্ষার পরও তেল পাননি। তেল না পাওয়া প্রসঙ্গে ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের কথা উল্লেখ করে মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘পাম্প থেকে ভোরে যখন লাইনে দাঁড়াই তখন বলেছিল বেলা দুইটার সময় তেল আসবে। দুইটার সময় যখন জিজ্ঞেস করেছি, তখন বলেছে বিকেল ৫টার সময় আসবে। এখন একটু আগে জিজ্ঞেস করে আসছি, বলেছে সাড়ে ছয়টা বাজবে।’ রিয়াজ উদ্দিনের দাবি, সংসদে মন্ত্রীরা বলেন, দেশে তেলের সংকট নেই। কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ভিন্ন। তেলের জন্য গেলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হয় তাঁদের। এই ফিলিং স্টেশনে বেলা ১১টায় মোটরসাইকেল নিয়ে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন নিয়ন মোহাম্মদ ইনতিসার। সাড়ে ৬ ঘণ্টা অতিক্রম হলেও তেল পাননি তিনিও। এই মোটরসাইকেলচালক বলেন, ‘অন্য ফিলিং স্টেশনে গেলে এতক্ষণে তেল পেয়ে যেতাম। কিন্তু এখানে দাঁড়িয়ে আছি সবার সামনে। ভাবছি তেল আসলেই সবার আগে আমি পাব। সে জন্য অপেক্ষা করতে করতে বিকেল সাড়ে ৫টা বেজে গেল। ভাবলাম কোথাও গিয়ে লাইনে দাঁড়ালে অনেক পেছনে দাঁড়াতে হবে, আবার তেল না–ও পেতে পারি।’ তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে তীব্র রোদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বলে জানান এই চালক। তাঁর মতে, সরকার এ বিষয়ে আরেকটু নজর দিলেই ভোগান্তিটা কমে যাবে। তেল না আসার বিষয়ে এই তালুকদার ফিলিং স্টেশনের ক্যাশিয়ার মো. এরশাদ প্রথম আলোকে বলেন, গত পরশু দিন ডিপো থেকে তাঁরা যে তেল পেয়েছিলেন, সেটি গতকাল পর্যন্ত বিক্রি করে শেষ। আজকে তেলের জন্য গাড়ি ডিপোতে গেছে। কিন্তু তেল আসতে দেরি হচ্ছে। যার কারণে তাঁরা অপেক্ষায় থাকা লোকদের তেল দিতে পারছেন না। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে তালুকদার ফিলিং স্টেশন থেকে জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য ২৩৪টি প্রাইভেট কার ও ১০৮টি মোটরসাইকেলকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। রাজধানীর আসাদ গেট এলাকায় মেসার্স তালুকদার ফিলিং স্টেশনের বিপরীত পাশে অবস্থিত সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে এই ফিলিং স্টেশনে এসে কথা হয় মোটরসাইকেলচালক মোক্তার হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ৫ ঘণ্টা পর তেল পেলেন তিনি। ভোগান্তি কমেছে কি না, এমন এক প্রশ্নের জবাবে এই মোটরসাইকেলচালক বলেন, ‘আগের থেকে অনেকটা কমেছে। আগে তো তেল নিতে ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা লাগত। এখন তো কিছুটা কম লাগছে। তবে ফিলিং স্টেশনে গিয়ে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার তেল সরবারাহ ঠিক রাখলে ভোগান্তি থাকবে না। যেটি আছে, সেটিও কমে যাবে।’ বিকেল সাড়ে পাঁচটায় এই ফিলিং স্টেশনে ২৯৭টি মোটরসাইকেলকে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়। রাজধানীর ব্যস্ততম একটি ফিলিং স্টেশন, তেজগাঁওয়ে অবস্থিত ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন। আজ বিকেল চারটার দিকে এই ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, ২০৮টি প্রাইভেট কার ও ১১২টি মোটরসাইকেল তেলের জন্য অপেক্ষা করছে। এই ফিলিং স্টেশনে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন প্রাইভেট কারের চালক মো. জনি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তেলের জন্য আগের চেয়ে সময় এখন কম লাগছে। আগে যে সময় লাগত এখন তা অর্ধেকে নেমে আসছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এই ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ার চালক আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘তেল নিতে সময় কিছুটা কমলেও এখনো যে সময় লাগে, সেটি আমাদের জন্য অনেক ভোগান্তির। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের অনেক লস হয়ে আসছে। এভাবে চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে থাকতে হবে।’ তেল নিতে আগের চেয়ে সময় কিছুটা কম লাগলেও কিছু কিছু ফিলিং স্টেশনে তেল না পাওয়ার ফলে ভোগান্তিটা রয়ে গেছে বলে জানালেন চালকেরা। সবগুলো ফিলিং স্টেশন যদি একসঙ্গে তেল সরবরাহ করে, তাহলে যে ভোগান্তিটা রয়েছে, সেটাও কেটে যাবে বলে মনে করেন তাঁরা।Published: প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ২৩
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/capital/i0ji4mc485
রাজধানী
জ্বালানি তেল সংকট
জ্বালানি তেল
Comments
No comments yet
Be the first to share your thoughts!