ইচ্ছা করেই এমন পেনাল্টি নিয়েছিলেন কেইন
পেনাল্টি মিস করার পর কাউকে বলতে শুনেছেন, ‘ইচ্ছা করেই করেছি’। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন অবশ্য সেটাই বললেন ঘুরিয়ে–পেঁচিয়ে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে রেকর্ড গড়া এক রাতে কেইনের পারফরম্যান্সে দাগ ছিল পেনাল্টি ‘মিস’টা। থামানোটা ‘বৈধ’ ছিল না বলে পেয়েছিলেন দ্বিতীয় সুযোগ। তবে কেইনের দাবি, সবটাই ছিল তাঁর পূর্বপরিকল্পনা।
ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের অষ্টম মিনিটে। বক্সের ভেতর বল ‘ক্লিয়ার’ করতে গিয়ে ফরোয়ার্ড ননি মাদুয়েকের ঊরুতে লাথি মেরে বসেন লুকা মদরিচ। সঙ্গে সঙ্গেই বুঝে যান, পেনাল্টির বাঁশি বাজতে চলেছে এখন। লজ্জায় হাত দিয়ে ঢেকে ফেলেন মুখ। পেনাল্টি দেওয়া হয় ইংল্যান্ডকে।
কিন্তু ডি-বক্সের কেইনকে যেন একটু অন্য রকম লাগল। তাঁর চিরায়ত রান-আপ ছিল না সেটা। কয়েক বছর ধরে কেইন দৌড়ে এসে জোরালো একটা শট নেন। মাঝখানে কোনো বিরতি নেই। যাতে গোলরক্ষকের হাতের ছোঁয়া পেলেও কোনো কাজ না হয়। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বদলে ফেললেন নিজের রান-আপ। পুরো পথ দৌড়ে এসে শট করার আগে নিলেন একটা বিরতি, এরপর নিলেন শট।
বদলে যাওয়া রান-আপ কাজে আসেনি। কেইনের কৌশল ধরে ফেলেছিলেন ক্রোয়াট গোলকিপার দমিনিক লিভাকোভিচ। বাঁ পাশে নেওয়া শট, থামিয়ে ফেললেন ছোট্ট একটা ধাপ দিয়েই। কিন্তু লিভাকোভিচের দুর্দান্ত সেভ ‘বৈধ’ ছিল না। কারণ, কেইন যখন বল পায়ে স্পর্শ কেছেন, ততক্ষণে লিভাকোভিচ বেরিয়ে এসেছিলেন গোললাইনের দাগ থেকে। নিয়ম অনুযায়ী শট নেওয়ার সময় অন্তত এক পা দাগে থাকতে হবেই হবে।
ভিএআর দেখে কেইনকে আবারও পেনাল্টি নেওয়ার সুযোগ দেন রেফারি। এবার আর ভুল করেননি তিনি। নিজের চিরায়ত রান আপ নিয়ে এসে করেন লক্ষ্য ভেদ। লিভাকোভিচ এবার ঝাঁপ দিয়েছিলেন ভুল দিকে।
মজার ব্যাপার হলো বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কেইন বলেন, রান-আপ বদলে ফেলার ঘটনা পুরোটাই পূর্বপরিকল্পিত। ‘আমি দেখেছি ও (লিভাকোভিচ) শট নেওয়ার আগে বেশ ছটফট করে। একটু এগিয়ে এসে সেভ দিতে চায়। তাই ভেবেছিলাম, যদি আমি একটু থেমে শট নিই, তাহলে হয়তো ও বেরিয়ে আসবে।’
হয়েছেও আসলে তা–ই। কেইনের শট থামিয়ে দিলেও লাইন থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। যদিও পেনাল্টি আবার নেওয়া হবে কী না, এ নিয়েই দোটানায় ছিলেন কিছুটা। ‘আমি ৮০ ভাগ নিশ্চিত ছিলাম, লাইনের বাইরে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। কিন্তু দ্বিতীয়বার যখন পেনাল্টি নেই, তখন আগের পদ্ধতিতেই ফেরত গিয়েছিলাম।’
‘প্রথম’ পেনাল্টি মিস করলেও পুরো ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছেন হ্যারি কেইন। দুই গোল করে বাগিয়ে নিয়েছেন ম্যাচসেরার পুরস্কার। অন্যদিকে লিভাকোভিচও কম যাননি। ৪ গোল হজম করলেও গুনে গুনে সেভ করেছেন ৭টি।
Published: প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ১৫: ৩৬
Source: https://www.prothomalo.com/sports/football/4f1h2bt8ww
Comments
No comments yet
Be the first to share your thoughts!