Home Articles জেলা

গঙ্গাচড়ায় ঘরে সংরক্ষিত আলুতে সুতলি পোকার আক্রমণ, রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন কৃষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক May 04, 2026
গঙ্গাচড়ায় ঘরে সংরক্ষিত আলুতে সুতলি পোকার আক্রমণ, রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন কৃষকেরা

রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বসতবাড়িতে সংরক্ষণ করা আলু সুতলি পোকার আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকেই নষ্ট আলু রাস্তার ধারে, খাল-বিলে ফেলে দিচ্ছেন। এমনিতেই আলুর বাজারদর কম, তার ওপর পোকার আক্রমণে আলু নষ্ট হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকেরা। আজ সোমবার সকালে গঙ্গাচড়ার কয়েকটি গ্রাম ঘুরে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। কৃষকেরা জানান, এ বছর আগাম বৃষ্টির কারণে কিছু আলু মাঠে রয়ে যায় এবং বৃষ্টিতে ভিজে যায়। পরে বাড়িতে সংরক্ষণের এক পর্যায়ে এসব আলুতে পোকার আক্রমণ শুরু হয়। উপজেলা কৃষি বিভাগ জানায়, আলুতে আর্দ্রতা বেশি থাকলে সুতলি পোকার আক্রমণ হয়। এ জন্য কৃষকদের আগে থেকেই পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল—আলু ফ্যানের বাতাসে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হবে। নিয়মিত আলু বাছাই করতে হবে এবং আলুর ওপর ছাই, বালু বা কাঠের গুঁড়ার আবরণ দিতে হবে। এ ছাড়া বিষকাঁঠালি বা নিমপাতার গুঁড়া ব্যবহার করলে সুতলি পোকার আক্রমণ কমে। কিন্তু বেশির ভাগ কৃষক বাড়িতে আলু স্তূপ করে রাখায় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে। গঙ্গাচড়ার চেংমারী ইউনিয়নের কুড়িয়ার মোড়ে কয়েকজন কৃষক বস্তাভর্তি নষ্ট আলু রাস্তার পাশে ফেলে দেন। এ ছাড়া পুকুর, খাল-বিল কিংবা গর্ত করে অনেকেই পচা আলু ফেলে রাখছেন। কুড়িয়ার মোড়ের কৃষক আশেকুল ইসলাম এ বছর ১ একর ৩২ শতাংশ জমিতে আলু চাষ করেছিলেন। প্রতি বস্তা ৬৫ কেজি হিসাবে তাঁর উৎপাদন হয় প্রায় ২০০ বস্তা। এর মধ্যে ২৫ বস্তা হিমাগারে রেখেছেন। বাকি আলু বাড়িতে স্তূপ করে সংরক্ষণ করেছিলেন। আশেকুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘নিজের পরিশ্রম বাদে দেড় লাখ টাকা খরচ হইছে। আলু বাড়িত পড়ি আছে। পচা আসছে। পাইকারেরা নেয় না। সব আলু নষ্ট হইছে।’ একই এলাকার নারী কৃষক বিউটি বেগম বলেন, ‘আমাদের ৪০ বস্তা আলু পচে গেছে। খালে, বিলে, পুকুরে—মানুষ যে যেখানে পারছে, পচা আলু ফেলে দিচ্ছে।’ কৃষকদের ভাষ্য, চেংমারীর কুড়িয়ার মোড় এলাকায় ৫০ থেকে ৬০ জন কৃষক সুতল পোকার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাঁরা জানান, প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১৫ থেকে ১৮ টাকা। অথচ এ বছর বাজারে আলুর দাম ৭ থেকে ১০ টাকার বেশি ওঠেনি। এতে বড় ধরনের লোকসানে পড়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি হিমাগারের সংকট ও উচ্চ ভাড়ার কারণে অনেক কৃষক বাড়িতেই আলু সংরক্ষণ করেন। কিন্তু সেখানেই পচন ধরায় ক্ষতি আরও বেড়েছে। বুড়িরহাটের আলু ব্যবসায়ী ফরহাদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাড়িতে রাখা আলুর প্রায় ৮০ শতাংশ সুতলি পোকার আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে। গঙ্গাচড়া উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মোছা. মারুফা খাতুন প্রথম আলোকে বলেন, সুতলি পোকা আলুতে ছিদ্র করে এবং পচিয়ে ফেলে। এ জন্য মাচা করে আলু সংরক্ষণ করা উচিত। বর্তমানে করণীয় হচ্ছে, পোকার আক্রমণ দেখামাত্র আক্রান্ত আলুগুলো আলাদা করে সরিয়ে ফেলতে হবে।

Published: প্রকাশ: ০৪ মে ২০২৬, ০৯: ৪৭

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/ghwx70r5yi

রংপুর আলু রংপুর বিভাগ গঙ্গাচড়া

Comments

No comments yet

Be the first to share your thoughts!