গাইবান্ধায় বাণিজ্য মেলা নিয়ে মুখোমুখি চেম্বার-এনসিপি

এই সময়ে মেলা না বসাতে এনসিপির গাইবান্ধা পৌর কমিটির ব্যানারে বুধবার দুপুরে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছে।
গাইবান্ধা শহরের বাংলাবাজার এলাকায় ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা শুরু করতে যাচ্ছে জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। এতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এই সময়ে মেলার আয়োজন না করার দাবিতে মানববন্ধন করেছে তারা।
এনসিপি গাইবান্ধা পৌর শাখার উদ্যোগে আজ বুধবার শহরের ডিবি রোডে দুপুরে এই মানববন্ধন করা হয়। এতে বক্তারা বলেন, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা বার্ষিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ–সংকটের কারণে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থার মধ্যেই সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে গাইবান্ধায় মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা শুরু হচ্ছে।
মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন এনসিপি পৌর কমিটির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির। বক্তব্য দেন এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিহাদুর রহমান, জেলা কমিটির আহ্বায়ক খাদেমুল ইসলাম, সদস্যসচিব রাহাত ইবনে শহীদ, এনসিপি নেতা শফিউল আযম, আবদুর রহমান প্রমুখ।
বক্তাদের ভাষ্য, মেলার আয়োজন করা হলে বিদ্যুতের ওপর চাপ বাড়বে। এতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি গাইবান্ধার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আড়ালে একটি চক্র মুনাফা লাভের জন্য বাণিজ্য মেলার আয়োজন করছে। তাই অবিলম্বে এই বাণিজ্য মেলার সব আয়োজন বন্ধ করতে হবে, অন্যথায় এনসিপি বৃহত্তর আন্দোলন শুরু করবে।
এনসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফিহাদুর রহমান বলেন, মাসব্যাপী মেলায় বহিরাগত ব্যবসায়ীদের স্টল বেশি থাকে। তাই মেলা চলাকালে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা কম হয়। এনসিপি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের স্বার্থে কাজ করে যাচ্ছে। তাছাড়া এই সময়ে মেলা হলে শিক্ষার্থীদেরও ক্ষতি হবে। তাই মানববন্ধনের মাধ্যমে মেলা না করার দাবি জানানো হয়েছে।
বাণিজ্য মেলা নিয়ে গাইবান্ধায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, গাইবান্ধা জেলা শহরে এমনিতেই ব্যবসায় মন্দাভাব। বাণিজ্য মেলায় ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ীদের স্টল বেশি থাকে। সেগুলোতে ক্রেতারা বেশি আকৃষ্ট থাকেন। মেলা চলাকালে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বেচাকেনা কম হয়। ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
অসময়ে মেলা প্রসঙ্গে গাইবান্ধা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মো. সামিউল হুদা জানান, প্রতিবছর শীতকালে মেলা হয়ে থাকে। আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে স্থানীয় নির্বাচন হতে পারে। তাই সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে মেলার আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। মেলায় ৭০টি স্টল স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। স্টল বরাদ্দ নেওয়ার জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। প্রতিবছর জেলা পর্যায়ে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা রয়েছে।
এনসিপির বিরোধিতা প্রসঙ্গে সামিউল হুদা বলেন, এনসিপি আন্দোলনের কোনো ইস্যু পাচ্ছে না। তাই মেলা ইস্যুতে আন্দোলন করছে তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. মনিরুজ্জামানের সঙ্গে মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি ধরেননি।
Published: আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৫৬
Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/uskk92jqmk
Comments
No comments yet
Be the first to share your thoughts!