Home Articles জেলা

গড়াই নদের ভাঙনে ঝুঁকিতে বালিয়াকান্দির সড়ক, হুমকিতে অর্ধশত পরিবার

প্রতিনিধি May 05, 2026
গড়াই নদের ভাঙনে ঝুঁকিতে বালিয়াকান্দির সড়ক, হুমকিতে অর্ধশত পরিবার

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার গড়াই নদের ভাঙনে নারুয়া ও জঙ্গল ইউনিয়নের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিতে পড়েছে। ভাঙনে নারুয়া-কোনাগ্রাম সড়কের বিভিন্ন অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির গড়াই নদের ভাঙনে নারুয়া ও জঙ্গল ইউনিয়নের প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকা ঝুঁকিতে পড়েছে। ভাঙনে নারুয়া-কোনাগ্রাম সড়কের বিভিন্ন অংশ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। জামসাপুর এলাকায় প্রায় ১০০ গজ সড়ক সংকুচিত হয়ে পায়ে চলার পথে পরিণত হয়েছে।

ছোট যানবাহন কোনোভাবে চলাচল করলেও বড় যানবাহন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে। মাঝেমধ্যে ঝুঁকি নিয়ে চলতে গিয়ে অটোরিকশা ও ভ্যান উল্টে দুর্ঘটনাও ঘটছে। বর্ষার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সড়কটি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা আছে। একই সঙ্গে ভাঙনঝুঁকিতে রয়েছে অন্তত অর্ধশত পরিবার।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধের ওপর নির্মিত সড়কটি কয়েক বছর আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পাকা করে। নারুয়া, জামসাপুর, কোনাগ্রাম, মরাবিলা ও গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা এবং শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। তবে তিন বছর ধরে জামসাপুর এলাকায় ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।

তিন বছর ধরে জামসাপুর এলাকায় বেশি ভাঙন দেখা দেয়। এ অবস্থায় চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পাউবো মাঝেমধ্যে বালুভর্তি জিও ব্যাগ ফেলে জরুরি মেরামতের কাজ করে। কিন্তু এসব ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ফলে সড়কটি দিন দিন আরও সরু হয়ে পড়েছে।

জামসাপুরের বাসিন্দা আবদুল মতিন বলেন, ‘ছয়-সাত বছর ধরে ভাঙন হলেও গত দুই-তিন বছরে তা বেড়েছে। রাস্তা সংকুচিত হয়ে আমার বাড়ির গা ঘেঁষে এসেছে। বর্ষায় কয়েক দিনের জন্য বস্তা ফেললেও পরে আবার আগের অবস্থায় ফিরে যায়।’

আবদুল মতিন অভিযোগ করে বলেন, নদীর অপর পাড়ে মাগুরার শ্রীপুরের গোয়ালদা-ঘষিয়াল চরে সারা বছর বালু উত্তোলনে নদীর তলদেশ দুর্বল হয়ে ভাঙন বাড়ছে। এ গ্রামের অর্ধশতাধিক পরিবার ভাঙনঝুঁকিতে আছে।

ভ্যানচালক সোরাব শেখ বলেন, রাস্তাটা ভেঙে একেবারে নিচে নেমে যাচ্ছে। বস্তা দিয়ে ঠেকিয়েও এখন ভ্যান চলা কঠিন। মাঝেমাঝে গাড়ি উল্টে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ আলাউদ্দিন ফকির বলেন, ‘ভাঙনের সময় পানির ভিতর দুই-চারখানা বস্তা হাবুডাবু কইরা ফেলাইয়া দিইয়া লোকজন চইলা যায়। পরে যা তা–ই হয়ে যায়, ভাঙন বন্ধ হয় না। এবার বর্ষার আগেই ভাঙন শুরু হয়েছে। পাশে বাড়িঘর রয়েছে। এসব বাড়িঘর কিছুই থাকবে না।’

পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী নাঈম রহমান বলেন, নারুয়া খেয়াঘাট থেকে কোনাগ্রাম পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কার করা হয়েছিল, কিন্তু তা টেকেনি। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

পাউবোর রাজবাড়ীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. তাজমিনুর রহমান জানান, নারুয়া ইউনিয়নের প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাসহ অন্তত ১৫টি স্থান অধিক ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্ষার আগে প্রতিরক্ষামূলক কাজের জন্য বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

Published: প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ১১: ৪৯

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/v6x9o32aus

রাজবাড়ী নদী ভাঙন ঢাকা বিভাগ বালিয়াকান্দি সড়ক ও জনপথ

Comments

No comments yet

Be the first to share your thoughts!