Home Articles বাংলাদেশ

ঢাকা মেডিকেলের ইএনটির বিভাগীয় প্রধানের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রতিবেদক August 19, 2026
ঢাকা মেডিকেলের ইএনটির বিভাগীয় প্রধানের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ঢাকা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করেছেন চিকিৎসকেরা। হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজের নাক কান গলা ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে চিকিৎসকদের দুটি সংগঠন। আজ বুধবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সোসাইটি অব অটোল্যারিংগোলজিস্ট অ্যান্ড হেড–নেক সার্জনস অব বাংলাদেশ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতি যৌথভাবে এই মানববন্ধনের পালন করে।

রাজধানীর শান্তিনগরের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চেম্বার থেকে বের হয়ে সিএনজি অটোরিকশায় ওঠার সময় গত সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে হামলার শিকার হন অধ্যাপক মো. আসাদুর রহমান।

মানববন্ধনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি হাসপাতাল), জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট, শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন। হামলাকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বক্তারা চিকিৎসক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন করতে সরকারকে আহ্বান জানান।

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল ড্যাবের সভাপতি পুলিশ কমিশনার ও আইজি মহোদয়ের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তাঁরা আশ্বস্ত করেছিলেন, অচিরেই অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও সচিবও এসেছিলেন এবং তাঁরাও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

মো. জহিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকেরা যদি নিরাপত্তা না পান, আমাদের চিকিৎসকেরা যদি কাজের পরিবেশ না পান, বাংলাদেশের যে বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থা আছে, তা ভেঙে পড়বে।’

সোসাইটি অব অটোল্যারিংগোলজিস্ট অ্যান্ড হেড–নেক সার্জনস অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. মাজহারুল শাহীন বলেন, মৃত্যু প্রতিরোধ করতে পারবেন—এমন গ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসা করতে পারবেন না চিকিৎসকেরা, তাঁদের লব্ধ জ্ঞান দিয়ে রোগীকে সুস্থ করে তোলার জন্য চেষ্টা করবেন। বাংলাদেশের চিকিৎসক সমাজ বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত এই কাজ করে যাচ্ছে ও ভবিষ্যতেও চালিয়ে যাবে।

অধ্যাপক মো. মাজহারুল শাহীন আরও বলেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যে ভুল–বোঝাবুঝি তৈরি হচ্ছে, সে জন্য ‘চিকিৎসক সুরক্ষা আইন’ এবং ‘রোগী সুরক্ষা আইন’ তৈরি হোক। কোনো চিকিৎসক দোষী হলে প্রচলিত আইন এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের মাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। কিন্তু কোনো কারণে, বিনা কারণে, উসকানিমূলকভাবে বা বিনা প্ররোচনায় চিকিৎসকদের ওপর হামলা মেনে নেওয়া যায় না।

মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. জাকারিয়া-আল-আজিজ বলেন, ‘আমাদের ডাক্তারসমাজ ধ্বংস হচ্ছে। এখন কেউ ডাক্তারি পড়তে চায় না। আপনি যখন-তখন তাঁর গায়ে হাত দেবেন, কোনো বিচার হবে না—এই অরাজকতা চলতে দেওয়া যেতে পারে না। এই অরাজকতা আমাদের থামাতে হবে।’

Published: প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৬, ১১: ০৮

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/0a2er0lz1v

ঢাকা চিকিৎসক ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

Comments

No comments yet

Be the first to share your thoughts!