Home Articles জেলা

বৃষ্টিতে ডুবেছে শহর, মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা

প্রতিনিধি April 28, 2026
বৃষ্টিতে ডুবেছে শহর, মোমবাতির আলোয় এসএসসি পরীক্ষা

অতিভারী বৃষ্টিতে ডুবে গেছে ফেনী শহরের বেশির ভাগ এলাকা। আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হয় শহরে। দুই ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে ডুবে যায় প্রধান সড়ক ও উপসড়কগুলো। বৃষ্টির সঙ্গে ছিল ঝোড়ো বাতাসও। প্রবল বাতাসে শহর ও শহরতলিতে ১০ থেকে ১২টি গাছ উপড়ে পড়েছে। দুর্যোগে বিপাকে পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় অনেক কেন্দ্রে মোমবাতি জ্বালিয়ে পরীক্ষা দিতে হয়েছে পরীক্ষার্থীদের। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গতকাল বিকেল থেকে আজ বেলা তিনটা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এটি এই মৌসুমের সর্বোচ্চ বৃষ্টি। এ মাত্রার বৃষ্টিতে অতিভারী বৃষ্টি হিসেবে ধরা হয় বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ফেনী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (উচ্চ পর্যবেক্ষক) মো. মজিবুর রহমান বলেন, আজ বেলা ৩টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫০ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় জেলাজুড়ে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ সকাল থেকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। একপর্যায়ে তীব্র ঝড় ও মুষলধারায় বৃষ্টি শুরু হয়। টানা দুই ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পানিতে ডুবে যায়। শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়ক, মিজান রোড, নাজির রোড, মাস্টারপাড়া, পেট্রোবাংলা, পাঠানবাড়ি, একাডেমি, সদর হাসপাতাল মোড়, শান্তি কোম্পানি সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানিতে ডুবে যায়। প্রবল বর্ষণে অলিগলিতে পানি জমে যাওয়ায় অফিসগামী যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ে। দুর্ভোগে পড়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীরাও। বৃষ্টির সঙ্গে প্রবল বাতাসে ফেনী সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন উপজেলার গ্রামীণ সড়কে গাছ ভেঙে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফেনী সদর উপজেলার কালীদহ ইউনিয়নের আলোকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, তীব্র ঝড়ে সড়কের আশপাশে ১০ থেকে ১২টি গাছ পড়ে যাওয়ায় গ্রামীণ এলাকার যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এসএসসি পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ তীব্র ঝড়বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার সময় ও কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার্থীদের নিয়ে বাড়িতে ফিরতে গিয়ে বৃষ্টির বাধায় পড়েছেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা। রাস্তায় পানি জমে থাকায় যানবাহন পেতেও সমস্যা হয়েছে। অনেকে পানি মাড়িয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ফেনী শহরের পাশাপাশি উপকূলীয় উপজেলা সোনাগাজী, সীমান্তবর্তী ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায়ও পরীক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছে। এসব উপজেলার সড়কগুলোতে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে বিদীত জাহাঙ্গীর। পরীক্ষা দিতে যাওয়া ও আসার পথে তাকে দুর্ভোগের মধ্যে পড়তে হয়েছে বলে জানায়। প্রথম আলোকে সে বলে, ‘পরীক্ষাকেন্দ্র সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে বৃষ্টি চলে আসে। আমাদের কোনো প্রস্তুতি ছিল না। তাই কেন্দ্রে যেতে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। তীব্র ঝড়বৃষ্টির কারণে বিদ্যুৎ বন্ধ থাকায় বিকল্প ব্যবস্থা করে আলো জ্বালানো হয় কেন্দ্রে। সেই আলোতে আমাদের পরীক্ষা দিতে হয়েছে।’ গত রোববার কালবৈশাখী ঝড়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে ফেনীর পরশুরাম উপজেলা। আজ সকাল থেকে আরও এক দফা ঝড়বৃষ্টি হওয়ায় উপজেলার বেশির ভাগ এলাকা ডুবে যায়। এ অবস্থায় এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে ঠিক সময়ে পৌঁছালেও মোমের আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাদের। অনেক কেন্দ্রে ঝোড়ো বাতাসে বারবার মোমবাতি নিভে যাওয়ায় পরীক্ষার্থীদের মনোযোগের ব্যাঘাত ঘটেছে। শরিফুল ইসলাম নামের এক পরীক্ষার্থী বলে, দুই দিন ধরে ঘরে বিদ্যুৎ নেই। পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে কষ্ট হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ না থাকায় মোমবাতির আলোয় পরীক্ষা দিতে হয়েছে। ছিল না গ্যাসও বিদ্যুৎ–সংকট ও জলাবদ্ধতার পাশাপাশি ফেনী শহরে গ্যাস–সংকটেও নাকাল হচ্ছেন বাসিন্দারা। গতকাল সোমবার সকাল থেকে পুরো জেলায় গ্যাস–সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ফলে রান্না হয়নি অনেক বাড়িতে; অনেকেই হোটেল থেকে বেশি দাম দিয়ে খাবার কিনে খেয়েছেন। বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন ফেনী কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী সালেহ আহমেদ বলেন, ফেনী-চট্টগ্রামের গ্যাস সঞ্চালন লাইন মেরামতের কাজের জন্য দুই দিন গ্যাস বন্ধ। আজ সন্ধ্যা থেকে গ্যাস–সংযোগ আবার চালু হবে। খাল-নালা ভরাট, পানি সরার জায়গা নেই ফেনীর বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পানি নামতে না পারায় জলাবদ্ধতা তীব্র হয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহরের অধিকাংশ খাল, নালা ও সুয়ারেজের লাইন ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়েছে। শহরের মাস্টারপাড়ার বাসিন্দা সৈয়দ মনির বলেন, মুষলধারে বৃষ্টিতে মাস্টারপাড়া সড়ক ডুবে দোকানপাটে পানি ঢুকে যায়। সুয়ারেজ লাইনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় এলাকা এমন বেহাল হয়েছে। ফেনী পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, ভারী বৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য শহরের প্রধান প্রধান সড়ক পানিতে ডুবে গেলেও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের তৎপরতায় সড়ক থেকে দ্রুত পানি নেমে যায়। সুয়ারেজ–ব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখার জন্য ১২টি দলে বিভক্ত হয়ে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন।

Published: প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ০৯

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/yro5xu5u64

ফেনী প্রাকৃতিক দুর্যোগ দুর্যোগ জলাবদ্ধতা চট্টগ্রাম জলাবদ্ধ চট্টগ্রাম আবহাওয়া চট্টগ্রাম বিভাগ

Comments

No comments yet

Be the first to share your thoughts!