‘বড়াই করে’ গাওয়ার কথা ছিল না অংকনের

মকফুল হোসেন May 05, 2026
‘বড়াই করে’ গাওয়ার কথা ছিল না অংকনের

ঈদে মুক্তি পাওয়া প্রেশার কুকার সিনেমায় গানটি ব্যবহৃত হয়েছে। কণ্ঠ দেওয়ার পাশাপাশি গানের কথা ও সুরও করেছেন অংকন কুমার। ২১ মার্চ ইউটিউবে গানের ভিডিও প্রকাশের পরপরই দর্শকেরা লুফে নিয়েছেন। দেড় মাসের ব্যবধানে ভিডিওটি প্রায় ১০ লাখ বার দেখা হয়েছে। প্রেমিক–প্রেমিকার আকুতিকে দরদভরা কণ্ঠে ফুটিয়ে তুলেছেন অংকন। এক শ্রোতা ইউটিউবে লিখেছেন, ‘মন থেকে কাউকে ভালোবাসলে এই গানটা শোনার পর শুধু তার চেহারা চোখের সামনে চলে আসবেই।’ আরেক শ্রোতা লিখেছেন, ‘ছেলেটা সব শিল্পীর চেয়ে আলাদা এবং তার লেখা, কণ্ঠের দরদ ও উচ্চারণ একদম আলাদা।’ গানটি গাওয়ার কথা ছিল না গানটি অংকন কুমার নিজের জন্য তৈরি করেননি। মূলত সংগীত প্রযোজক জাহিদ নিরবের জন্য এটি তৈরি করেছিলেন তিনি। সুর করার সময়ও জাহিদ নিরবের কথা মাথায় রেখেছিলেন তিনি। জাহিদ নিরব শেষ পর্যন্ত গানটি নিজে না গেয়ে অংকনকে গাইতে বলেন। নিরবের মতে, অংকন গাইলে গানটি বেশি সুন্দর লাগবে। নিরবের সেই অনুরোধেই গানটিতে কণ্ঠ দেন তিনি। গানটি তৈরির সময়েই পরিচালক রায়হান রাফীর টিমের সঙ্গে তাঁদের কথা হয়। সে সময় রাফীর সিনেমার শুটিং চলছিল। শেষ পর্যন্ত গানটি তাঁর সিনেমায় যুক্ত করা হয়। ‘উপ’ থেকে ‘বড়াই করে’ মৌলিক গান ‘উপ’ দিয়ে প্রথম আলোচনায় আসেন অংকন। ২০২২ সালে হাতিরপুল সেশনসে গানটি প্রকাশের পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গানটি তাঁকে তারকাখ্যাতি এনে দিয়েছে। কোক স্টুডিও বাংলায় ‘লং ডিসট্যান্স লাভ’ গানটিও পরে সাড়া ফেলেছিল। বছর তিন–চারেকের ক্যারিয়ারে পাঁচ–ছয়টির মতো মৌলিক গান প্রকাশ করেছেন অংকন। বেশির ভাগই হিট। সব গানে ঘুরেফিরে প্রেমের আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। তবে তিনি গানকে পুরোপুরি ‘রোমান্টিক’ বলতে নারাজ। অংকনের ভাষ্য, রোমান্টিক সম্পর্কের আড়ালে যে জটিল অনুভূতি ও আবেগগুলো থাকে, যা সাধারণত মানুষের সামনে আসে না, সেগুলোই তিনি গানে তুলে ধরতে পছন্দ করেন। এর মধ্যে দূরবর্তী প্রেম আছে, কাউকে না পাওয়ার বেদনা কিংবা একতরফা প্রেমও আছে। গানের আবেগের সঙ্গে বাস্তবতার মেলবন্ধন ঘটাতে চান তিনি। গানের সংখ্যা কম কেন—জানতে চাইলে অংকন জানান, প্রচুর গান প্রকাশের চেয়ে তিনি গানের মানের ওপর জোর দেন। তাঁর লক্ষ্য আন্তর্জাতিক মানের সাউন্ড বা ফ্রিকোয়েন্সি আউটপুট তৈরি করা। অংকন কুমার মনে করেন, শিল্পী হিসেবে মানুষের হৃদয়ে টিকে থাকার মূল চাবিকাঠি হলো ভালো মানের কাজ। তাঁর ভাষ্য, সংগীত অনেক সময় তাঁকে প্রতিকূল পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়েছে এবং তিনি মূলত আনন্দের সঙ্গেই গান তৈরি করতে ভালোবাসেন। গানের বাইরে সংগীতের বাইরে নিয়মিত ফুটবল খেলেন অংকন। মিডফিল্ডার ও স্ট্রাইকার হিসেবে পরিচিতি রয়েছে। অবসরে উপন্যাস, কবিতা আর কমিকস পড়তে ভালোবাসেন। অবসরে অ্যাকশন গেম খেলেন, অ্যানিমেশন মুভি দেখেন। ঢাকাতেই অংকন কুমারের বেড়ে ওঠা ও পড়াশোনা। পারিবারিকভাবেই তাঁর সংগীতের হাতেখড়ি। পরিবারের সদস্যরা গানের সঙ্গে যুক্ত। ছোটবেলা থেকেই গান শিখেছেন তিনি। ক্যারিয়ারে প্রথম একক অ্যালবাম নিয়ে কাজ করছেন অংকন। অ্যালবামে চার থেকে পাঁচটি মৌলিক গান থাকবে। পাশাপাশি একটি যৌথ অ্যালবামের কাজও চলছে, যাতে পপ ধারার গানের আধিক্য থাকবে। এ ছাড়া বেশ কিছু প্রজেক্ট বর্তমানে হাতে রয়েছে, যা এখনই তিনি প্রকাশ করতে চান না।

Published: প্রকাশ: ০৫ মে ২০২৬, ০৬: ৩০

Source: https://www.prothomalo.com/entertainment/song/cr4ck6fi4a

সংগীত সংগীত শিল্পী তরুণ মুখ

মন্তব্য

এখনো কোন মন্তব্য নেই

আপনার চিন্তা শেয়ার করতে প্রথম হতে!