হোম আর্টিকেল বাংলাদেশ

আরও দুই মামলায় সাবেক মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত নয়: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক April 26, 2026
আরও দুই মামলায় সাবেক মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত নয়: হাইকোর্ট

সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো (শোন অ্যারেস্ট) কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত নয়।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সর্বশেষ সিদ্ধিরগঞ্জ থানার পৃথক দুটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো (শোন অ্যারেস্ট) কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি রাজিক–আল–জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার রুলসহ আদেশ দেন। পৃথক মামলায় জামিনের পর ওই দুটি মামলায় গত ২ মার্চ ও ১২ এপ্রিল আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে রিটটি করেন তিনি। আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন, সঙ্গে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু, আইনজীবী এস এম হৃদয় রহমান ও প্রিয় আহসান চৌধুরী। পরে সারা হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ওই দুটি মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো কেন বেআইনি এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হবে না, তা জানতে চেয়ে আদালত রুলসহ নির্দেশ দিয়েছেন। এর আগে এই আদালত সাধারণত সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া আবেদনকারীকে গ্রেপ্তার না দেখাতে ও হয়রানি না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। অন্য মামলার ক্ষেত্রে দেখেছি। এ ক্ষেত্রে (আইভী) কী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা পূর্ণাঙ্গ আদেশ পেলে বিস্তারিত বলা যাবে।’ গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের ঘটনায় হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই পাঁচ মামলায় হাইকোর্ট থেকে গত বছরের ৯ নভেম্বর জামিন পান কারাবন্দী সেলিনা হায়াৎ আইভী। এই জামিনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে পৃথক পাঁচটি আবেদন করে। চেম্বার আদালত গত বছরের ১২ নভেম্বর হাইকোর্টের দেওয়া জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। আবেদনগুলো আপিল বিভাগে শুনানির অপেক্ষায়। আইভীর আইনজীবীর তথ্যমতে, ওই পাঁচ মামলায় যেদিন হাইকোর্ট থেকে আইভী জামিন পান, সেদিনই (গত বছরের নভেম্বর) আরও পাঁচ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয় এবং তা মঞ্জুর হয়। এই পাঁচ মামলার এজাহারে আইভীর নাম ছিল না। পৃথক এই পাঁচ মামলায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সেলিনা হায়াৎ আইভী হাইকোর্ট থেকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। এসব জামিন আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। চেম্বার আদালত ৫ মার্চ শুনানি নিয়ে আইভীকে হাইকোর্টের দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিন স্থগিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনগুলো আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান। এরপর সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ২০২৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ও ২০২৫ সালের ৩০ জুন করা দুটি (হত্যার অভিয়োগ) মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখাতে সংশ্লিষ্ট থানা–পুলিশ আবেদন করে বলে রিট আবেদন থেকে জানা যায়। রিটের তথ্য অনুসারে, একটি মামলায় ২ মার্চ ও অপর মামলায় ১২ এপ্রিল গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন নারায়ণগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট। গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে গত সপ্তাহে রিটটি করা হয়। ২০০৩ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ছিলেন আইভী। পরে নবগঠিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের টানা তিনটি নির্বাচনে জয়ী হন তিনি।

Published: প্রকাশ: ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৪: ৩৬

Source: https://www.prothomalo.com/bangladesh/r48eif40rr

আদালত আইন ও আদালত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নারায়ণগঞ্জ সিটি নারায়ণগঞ্জ সেলিনা হায়াৎ আইভী

মন্তব্য

এখনো কোন মন্তব্য নেই

আপনার চিন্তা শেয়ার করতে প্রথম হতে!