আমিরাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার পর তেলের দাম দুই সপ্তাহে সর্বোচ্চ

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধবিরতির চলমান উদ্যোগ থমকে যাওয়ার আশঙ্কায় সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়েছে। তেলের দাম প্রতিদিনই বাড়ে বা কমে, তবে এ ধরনের ভূরাজনৈতিক ঘটনায় বাজারে দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়ে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের এক পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার ঘটনা এবং ইরান ইস্যুতে সামরিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈঠক করবেন—এমন পরিস্থিতিতে বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক শূন্য ৩ ডলার বা ১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১১১ দশমিক ২৯ ডলার। এর আগে দাম ১১২ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল, ৫ মের পর যা সর্বোচ্চ।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩১ ডলার বা ২ দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ১০৭ দশমিক ৭৩ ডলার হয়েছে। এর আগে দাম উঠেছিল ১০৮ দশমিক ৭০ ডলারে, ৩০ এপ্রিলের পর যা সর্বোচ্চ। জুন মাসের আগাম তেল বিক্রির চুক্তির মেয়াদ মঙ্গলবার শেষ হবে।
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শান্তিচুক্তি হবে এবং এরপর হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা ও জাহাজ জব্দের ঘটনা বন্ধ হবে—এই আশা ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় গত সপ্তাহে তেলের দাম ৭ শতাংশ বেড়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের বৈঠকেও এই সংঘাত নিরসনে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল আমদানিকারক দেশ চীন সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে—এমন ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান প্রেস্টিজ ইকোনমিকসের জেসন শেঙ্কার এক নোটে বলেন, ‘ইরানের সংঘাত যত দীর্ঘ হবে, তেলের দামে দীর্ঘমেয়াদি চাপের ঝুঁকিও তত বাড়বে। এতে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চপর্যায়ে থাকতে পারে।’ তিনি আরও বলেন, এর ফলে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতেও স্থায়ী নেতিবাচক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবে ড্রোন হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বেড়েছে।
আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ উল্লেখ করে বলেছে, এর জবাব দেওয়ার পূর্ণ অধিকার তাদের আছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের আকাশসীমা থেকে প্রবেশ করা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা লঙ্ঘনের যেকোনো চেষ্টার জবাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আইজি মার্কেটসের বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, ড্রোন হামলাগুলো থেকে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল আবার ইরানে হামলা চালালে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ইরান বা তাদের মিত্ররা আরও প্রক্সি হামলা চালাতে পারে।
এদিকে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইরান ইস্যুতে সামরিক পদক্ষেপের বিকল্প নিয়ে আলোচনা করতে মঙ্গলবার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন ট্রাম্প।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন শনিবার সমুদ্রপথে রাশিয়ার তেল কেনার ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তার অব্যাহতির মেয়াদ আর বাড়ায়নি। ফলে ভারতসহ কয়েকটি দেশ এত দিন যে সুবিধায় রুশ তেল কিনতে পারছিল, তা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
Published: প্রকাশ: ১৮ মে ২০২৬, ০৬: ১৭
Source: https://www.prothomalo.com/business/world-business/ayewtncvpe
Comments
No comments yet
Be the first to share your thoughts!