‘আগামী সপ্তাহের মধ্যে’ ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।
ইরান যুদ্ধ বন্ধে একদিকে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে আলাপ চলছে, তখন লেবাননের চরম নৃশংসতা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। এ হামলার কারণে প্রথমে ইরান আলোচনা থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বললেও আবার ফিরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে পারবেন বলে আশাবাদী তিনি।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইরানের সমর্থনে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ ইসরায়েলের হামলা চালালে মার্চ মাসের শুরুতে লেবাননে ব্যাপক হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী। এরপর ৮ এপ্রিল ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও লেবাননে হামলা বন্ধ করেনি ইসরায়েল। আজ মঙ্গলবারও দেশটিতে নৃশংস হামলা চালিয়েছে তারা।
হামলার মধ্যে গতকাল সোমবার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপ করেন ট্রাম্প। এরপর হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল আংশিক যুদ্ধবিরতি বা হামলা কমিয়ে আনতে রাজি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। আজ লেবাননের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গণমাধ্যমে এ খবরও বেরিয়েছে যে ওই ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে কড়া কথা শুনিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি ‘পাগলও’ বলেছেন।
সবশেষ খবর হচ্ছে, সংঘাত পুরোপুরি বন্ধে আজ ওয়াশিংটনে লোচনা বসেছে লেবানন ও ইসরায়েল। আগামীকাল বুধবারও আলোচনার কথা রয়েছে। আর ইরান যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে ট্রাম্প যে আশার কথা শুনিয়েছেন, তা বাস্তব হয় কি না—জানতে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে। বর্তমানে তেহরান–ওয়াশিংটনের মধ্যে যে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, তাতে ঐকমত্য হলে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়বে। এ সময় যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধসহ একটি চুক্তি করতে আলোচনায় বসবে ইরান–যুক্তরাষ্ট্র।
আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত ইরানের
চুক্তি নিয়ে আশার কথা ট্রাম্প বলেছিলেন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে একটি চুক্তি করতে পারবেন। আর আগে কিছু বিষয় নিয়ে ইরানের সঙ্গে তাঁকে সমঝোতা করতে হবে। সোমবারই মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা দ্রুতগতিতে চলছে।
সেদিন চুক্তি নিয়ে আলোচনা থেকে সরে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি লেখেন, ‘লেবাননের যদি জায়নবাদী শাসকদের অপরাধ চলতে থাকে, তাহলে আমরা শুধু আলোচনাই বন্ধ করে দেব না, একই সঙ্গে আমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব। লেবানন ও ইরানের জনগণের ভ্রাতৃত্ববোধ দীর্ঘজীবী হোক।’
হিজবুল্লাহ ইরানপন্থী গোষ্ঠী। তাই লেবাননে ইসরায়েলের হামলা নিয়ে শুরু থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে তেহরান। যদিও হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েল হামলায় লাগাম টানবে—এ খবর সামনে আসার পর ইরানের সংবাদমাধ্যম মেহর নিউজে দেশটি আবার আলোচনায় ফিরেছে বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এ–ও বলা হয়েছে যে চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রস্তাব নিয়ে এখনো নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছে ইরান।
প্রস্তাব নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনার অর্থ হলো, এখনো সেটির জবাব যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়নি তেহরান। এ বিলম্বের পেছনের কারণ হলো ওয়াশিংটনের প্রতি ‘অবিশ্বাস’—মেহর নিউজকে এ কথাই বলেছে একটি সূত্র। যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বাসভঙ্গের ইতিহাসের কারণে আবার যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতিও নিয়ে রেখেছে ইরানের বাহিনী। ইরানের ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোরের জেনারেল সরদার মোহেবি বলেছেন, যুদ্ধবিরতির সময় নিজেদের সামরিক ও অভিযান–সংক্রান্ত সক্ষমতা বাড়িয়েছেন তাঁরা।
নেতানিয়াহু ‘পাগল’
ইরান–যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি ছাড়াও কয়েক দফায় লেবানন–ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে মূলত লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালাচ্ছিল ইসরায়েল। তবে সম্প্রতি নেতানিয়াহু ঘোষণা দেন, রাজধানী বৈরুতের উপকণ্ঠেও হামলা চালানো হবে। এরপর হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় মূলত ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে কড়া কথা শোনান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ফোনালাপে ট্রাম্পের মেজাজ চড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস। সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, কথা বলার সময় নেতানিয়াহুকে সরাসরি ‘পাগল’ ও ‘অকৃতজ্ঞ’ বলেন ট্রাম্প। কথোপকথনের এক পর্যায়ে বেশ ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহুকে তিনি এ–ও বলেন, ‘এখন সবাই আপনাকে ঘৃণা করে। এ কারণে (যুদ্ধ) সবাই ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।’
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, ফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প স্মরণ করিয়ে দেন, তিনি অতীতে নেতানিয়াহুকে বিভিন্ন বিষয়ে সমর্থন দিয়েছেন। তবে লেবাননে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখলে ইসরায়েল আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে। যদিও ট্রাম্প আর নেতানিয়াহুর উত্তপ্ত ফোনালাপের বিষয়ে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
Published: প্রকাশ: ০২ জুন ২০২৬, ১৪: ১২
Source: https://www.prothomalo.com/world/middle-east/dpxampc9rl
Comments
No comments yet
Be the first to share your thoughts!