Home Articles স্কুল

৪৭৩ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত পাঠদান

দৈনিক শিক্ষাডটকম প্রতিবেদক May 05, 2026
৪৭৩ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত পাঠদান

জামালপুর জেলার ৪৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৯৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। #প্রধান শিক্ষক

জামালপুর জেলার ৪৭৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। এসব বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম। এ ছাড়া জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৯৮টি সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য আছে। সরজমিনে সম্প্রতি জামালপুর পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কক্ষে দুজন করে শিক্ষার্থী বসে আছে। পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে পাওয়া গেল তিনজন শিক্ষার্থী। প্রধান শিক্ষকের অভাবে বেহাল হয়ে পড়েছে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম। প্রায় ৩১ বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। সবশেষ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দের ১০ নভেম্বর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পড়ে সহকারী শিক্ষক সুরাফীয়া আক্তারের কাঁধে। তিনি জানান, ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দের ১ জানুয়ারি শূন্য হয় প্রধান শিক্ষকের পদ। এরপর থেকেই চলছে ভারপ্রাপ্ত দিয়ে। তিনি দাপ্তরিক কাজে গেলে তিনজন শিক্ষক দিয়ে চলে পাঠদান। ছাত্রছাত্রী কম উপস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, পুলিশ লাইন্সের এক সড়কেই রয়েছে ১৪-১৫টি সরকারি-বেসরকারি স্কুল ও মাদরাসা। তাছাড়া গত ১৫ এপ্রিল ছিল পুলিশ লাইন্স মাঠে কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষা। শহরের চালাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আওলিয়া আক্তার জানান, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ জুলাই প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হয়। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। বিদ্যালয়ে শিক্ষকের পদ সংখ্যা ছয়টি। শিক্ষার্থী ১২৯ জন। পাঁচটি শ্রেণিকক্ষের মধ্যে দুটি ব্যবহারের অযোগ্য। দরজা-জানালা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই অস্থায়ী দুটি শ্রেণিকক্ষে পানি জমে যায়। নেই প্রয়োজনীয় বেঞ্চ। তাই মেঝেতে বসেই চলে পাঠদান। তিনি জানান, তিনি দাপ্তরিক কাজে ব্যস্ত থাকলে তাঁর ক্লাস থাকে শিক্ষক শূন্য। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, জামালপুরের সাতটি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষকের পদ রয়েছে এক হাজার ১৬৪টি। এর মধ্যে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চলতি দায়িত্বসহ কর্মরত আছেন ৬৯১ জন। ৪৭৩টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ ২৪৪টি, শূন্য ১০১টি। ইসলামপুর উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ ১৭৭টি, শূন্য ৬৯টি। দেওয়ানগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের পদ ১৩৯টি, শূন্য ৪৫টি। বকশীগঞ্জ উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ ১১০টি, শূন্য ৪৪টি। মেলান্দহ উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ ১৫৯টি, শূন্য ৬১টি। মাদারগঞ্জে প্রধান শিক্ষকের পদ ২০১টি, শূন্য ৮৭টি এবং সরিষাবাড়ী উপজেলায় প্রধান শিক্ষকের পদ ১৩৪টি, শূন্য ৬৬টি। জানা গেছে, ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ২০১ জন সহকারী শিক্ষককে প্রধান শিক্ষকের পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এর আগে ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের আগ পর্যন্ত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির মাধ্যমে জ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা বিবেচনায় নিয়ে সিনিয়র সহকারী শিক্ষকদেরই পদোন্নতির মাধ্যমে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া হতো। ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে প্রধান শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণির পদমর্যাদা ঘোষণার ফলে বিভাগীয় পদোন্নতি বন্ধ হয়ে যায়। ফলে তখন থেকে প্রতিনিয়ত প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য হতে থাকে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। জামালপুর পৌর শহরের আটটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক না থাকায় বেহাল প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র। একাধিক সহকারী শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে দাপ্তরিক ও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা ও উপজেলা অফিসে যেতে হয়। তখন সহকারী শিক্ষকরা সঠিকভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারেন না। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী আহসান বলেন, প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদে নিয়োগের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবর প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য ১৩৬ জন সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তারা যোগদান করলে শূন্য পদ কমে আসবে। #প্রধান শিক্ষক

Published: 05/05/2026 10:25 am

Source: https://www.dainikshiksha.com/bn/news/473-schools-lack-head-teachers-disrupting-teaching-370786

প্রধান শিক্ষক

Comments

No comments yet

Be the first to share your thoughts!